মাইটোসিসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ( Significance of Mitosis)
এককোষী জীব থেকে শুরু করে বহুকোষী জীব সকলের ক্ষেত্রেই মাইটোসিস কোষ বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ-
- সকল বহুকোষী জীব জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এ কোষটিই বার বার মাইটোসিস বিভাজন পদ্ধতিতে অসংখ্য কোষ সৃষ্টি করে। ফলে এরা বহু-কোষযুক্ত অবস্থায় পৌঁছায়।
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে মাতৃকোষের ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোমের সংখ্যা অপত্যকোষেও বজায় থাকে।
- মাইটোসিস কোষের প্রকৃত আয়তন (size) বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- বহুকোষী উদ্ভিদ ও প্রাণী এ ধরনের বিভাজন দ্বারা দেহকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দেহের বৃদ্ধি (growth) এবং পরিস্ফুটন (development) ঘটায়। ফলে জীবেরা ভ্রূণ অবস্থা থেকে পরিস্ফুটনের মাধ্যমে পরিণত অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
- মাইটোসিস বিভাজন দ্বারা কোষে DNA ও RNA-র পরিমাণের সমতা বজায় থাকে।
- মাইটোসিস বিভাজনের ফলে পুরোনো ক্ষয়প্রাপ্ত এবং মৃতকোষ নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়।
- কিছু প্রাণী দেহের বিভিন্ন অঙ্গ পুনরুৎপাদন করতে সক্ষম। যেমন- হাইড্রার দেহের অংশ, সমুদ্র তারার বাহু। মাইটোসিসের মাধ্যমে উৎপন্ন কোষেই অঙ্গের পুনরুৎপাদন সম্ভব হয়।
- মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় নিম্নশ্রেণির জীবদেহে অযৌন জনন সম্পন্ন হয় এবং জীবের বংশবিস্তার ঘটে।
- জনनঅঙ্গ (gonads) এবং জনন কোষের (sex cell) সংখ্যাবৃদ্ধি মাইটোসিসের উপর নির্ভরশীল।
- মাতৃ ও পিতৃ কোষের জিনোম এক হওয়ায় এবং এ ধরনের বিভাজনে ক্রোমোজোম লম্বালম্বি বিভাজিত হওয়ায় সমসংখ্যক ও সমগুণসম্পন্ন জীব গঠনের নিশ্চয়তা হয়।
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে যে অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় তার ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের মতো সমসংখ্যক হওয়ায় নির্দিষ্ট প্রজাতির দেহের ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে এবং এর ফলে জীবদেহের বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলিত পারে।
- সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন ক্ষুদ্রাঙ্গ (অঙ্গাণু) ও রাসায়নিক উপাদানের সাহায্যে নিউক্লিয়াস কোষের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মাধ্যকার পরিমাণগত ও নিয়ন্ত্রণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
Post a Comment